পৃথিবীতে সব কাজ সবাইকে দিয়ে হয় না। আবার অনেককে দিয়ে কোন কাজই হয় না। আমি হলাম দ্বিতীয় দলে। কোন কিছু গুছিয়ে করতেও পারি না, বলতেও পারি না। তারপরও আমি চেষ্টা করব যারা আমার ব্লগ পড়েন তাদের সাথে আমার জীবনের কিছু মজার ও স্মরণীয় ঘটনা শেয়ার করার জন্য। ঘটনাগুলি আসলেই মজার হলেও হয়ত আমার গুছিয়ে বলতে না পারার কারনে অতটা মজার নাও লাগতে পারে। আমি তাই শুরুতেই আমার অক্ষমতার জন্য ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।
শুরু করি স্কুল লাইফের একটা ঘটনা দিয়ে। আমি তখন ক্লাস সিক্স নাকি সেভেনে। ননী স্যার ছিলেন আমদের ক্লাস টিচার। ভীষন মজার মানুষ ছিলেন এই ননী স্যার। ছিলেন ক্রীকেট পাগল। ব্যাটের মত বেতটাকে ধরে ক্রীকেটের শট খেলার মতন করে ছেলেদের মারতেন। আমরা যদি একটু ‘ওহ...!’ করে শব্ধ করতাম তাহলে তিনি হেসে হেসে বলতেন, “মাত্র soft hand এ খেলে একটা single নিলাম, তাতেই এ অবস্থা? চার-ছয় মারা শুরু করলে তখন কী করবি?” আমরা যদি কখনও ক্লাসে পড়া না শিখে আসতাম তাহলে চালাকি করে স্যারের সাথে ক্রিকেট নিয়ে আলোচনা শুরু করে দিতে চেষ্টা করতাম। আর যদি কোনমতে একবার আলোচনাটা শুরু করে দিতে পাড়তাম তাহলে পড়া নিয়ে আর চিন্তা করতে হত না। ক্রিকেট নিয়ে গল্প করতে করতে কখন যে সময়টা চলে যেত স্যারের খেয়ালই থাকত না। তো একবার স্যার ক্লাসে এসে নাটক নিয়ে গল্প আরম্ভ করলেন। বললেন, “কালকের BTV তে বিকেলের নাটকটা কি কেউ তোরা কেউ দেখেছিস? অসাধরন হয়েছে নাটকটা।“ আমরা সবাই তো অবাক – ক্রিকেট বাদ দিয়ে নাটক নিয়ে ননী স্যার গল্প করছেন! ভাবলাম ক্রিকেট হোক আর নাটক হোক কোন একটা বিষয় নিয়ে আলোচনা করে ক্লাসের সময়টা কাটিয়ে দিতে পাড়লেই হল। পড়া দিতে হবে না এটাই হচ্ছে আসল কথা। ফলে আমারা ক্লাসের অনেকই খুশী হয়ে স্যারের সাথে নাটকটি নিয়ে আলোচনা করতে লাগলাম। এরকম করে অনেক্ষণ আলোচনা চলল। এরপর হটাত করে আমরা যারা ক্লাসে স্যারের সাথে নাটকটি নিয়ে আলোচনা করছিলাম তাদের সবাইকে স্যার দাঁড়াতে বললেন। বললেন, ‘খুব চালাক হয়ে গেছিস না? খুব নাটক দেখা হচ্ছে? এখন বাবারা আমাকে বল তো, তোদের স্কুল ছুটি হয় বিকেল ৪টায়। আর নাটকটা দেখিয়েছে বিকেল ৩টায়। তোরা তো সবাই কালকে স্কুলে এসেছিলি। তাহলে ৩টায় নাটকটা কীভাবে দেখলি আমাকে বল তো? নিশ্চয় বাচাধনেরা টিফিন ছুটির সময় স্কুল পালিয়েছিলি? দাঁড়া তোদের দেখাচ্ছি মজা!”
এরপর কি হল? থাক, সে করুণ অধ্যায়টা আর না হয় নাই বললাম। ‘কে হায় হৃদয় খুঁড়ে বেদনা জাগাতে ভালবাসে...?”
Tags: SwapnoHara